Picture

“পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম হল পুলিশী কাজে জন-অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার একটি সাংগঠনিক কাঠামো৷বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারের কাঠামোগুলোর সাথে সমন্বয় করে কমিউনিটি পুলিশিং এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ফোরাম গঠনের কথা বলা হয়েছে৷ ওয়ার্ড কমিটিগুলোই হবে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নের তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠন৷ ওয়ার্ড ফোরামগুলোর দুইটি অংশ থাকবে-একটি কার্যকরী কমিটি, অন্যটি হবে উপদেষ্টা কমিটি৷ ওয়ার্ডের বাইরে অন্যান্য কমিটিগুলোর সবই হবে আহবায়ক কমিটি, যে গুলো একজনকে আহবায়ক করে গঠিত হবে৷ একজন সভাপতি, একাধিক সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক/দফতর সম্পাদক, একজন কোষাধাক্ষসহ ওয়ার্ডের সিপিএফ/কমিটির সর্বমোট সদস্য সংখ্যা ১১ থেকে ২১ জনের মধ্যে সীমিত রাখা বাঞ্ছনীয়৷ তবে প্রয়োজনের ভিত্তিতে যে কোনো সময়ে এ সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা যেতে পারে৷ সদস্যদের এক তৃতীয়াংশ নারী সদস্য হবেন৷ সিপিএফ/কমিটির সংবিধানে প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব ও কর্তব্য, কার্যকাল, অব্যহতিদান সহ সিপিএফ/কমিটির গঠন প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট ভাবে সংজ্ঞায়িত করা থাকবে৷ সিপিএফ/কমিটির জন্যে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা (সিপিও) পদাধিকার বলে উক্ত কমিটির সদস্য পদ লাভ করবেন৷ ফৌজদারী কার্যবিধি 42/43 ধারার ভিত্তিতেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

বৈশিষ্ট্য:

  • কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা পুলিশ ও জনগনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করে।
  • এটি একটি প্রতিরোধমূলক ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক পুলিশী ব্যবস্থা।
  • এ ব্যবস্থায় জনগণ এলাকার সমস্যা ও সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে পুলিশের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ পায়।
  • পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায়।
  • জনগণের নিকট পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
  • পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমে এবং জনগনের মধ্যে পুলিশ ভীতি ও অপরাধ।
  • হ্রাস পায় এবং জনগণ পুলিশকে সহায়তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়।
  • জনগণের সহায়তায় পুলিশ নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা সমাধানের কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে পারে।
  • জনগণ পুলিশের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতের আলোকে পুলিশী সেবা নিশ্চিত করা যায়।

কমিউনিটি পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব  কর্তব্য : থানার সেকেন্ড অফিসার পদাধিকার বলে সিপিও বা কমিউনিটি পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সিপিও হিসেবে তিনি নিম্নে বর্ণিত দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

  • দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে গঠিত কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির স্থানীয় জনসাধারণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে অপরাধ দমন করতে হবে এবং  অপরাধের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে।
  • থানা এলাকার প্রতিটি বিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর উক্ত এলাকার সার্বিক অপরাধ কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করছেন কিনা তা তদারকি করবেন এবং অপরাধের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করবেন।
  • উঠান বৈঠকের মাধ্যমে অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করবেন।
  • বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং ও স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে যুব সমাজ, শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের মধ্যে সকল অন্যায় ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করবেন।

সিপিএফ কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের দায়িত্ব  কর্তব্য :

  • যেকোন ধরণের অপরাধের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে বা বিট এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারকে সংবাদ দেয়া।
  • থানা পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত সকল সভা, সেমিনারে যোগদান করা।
  • পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যেকোন ধরণের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে পুলিশকে সম্পৃক্ত করা।
  • অপরাধ দমন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং কমিউনিটি পুলিশিং ফোরম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।
  • মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, কিশোর অপরাধ প্রতিহত করণ, ইভটিজিং রোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিহতকরণসহ নারী ও শিশুদের প্রতি যেকোন নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করা।
  • সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিহতকরণের লক্ষ্যে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করা